মেঘের পিঠে
<div class="translation-meta-block" style="border-bottom: 2px solid rgba(99,102,241,0.15); padding-bottom: 1.25rem; margin-bottom: 1.75rem;"><h2 style="font-size: 1.6rem; font-weight: 700; color: var(--text-primary); margin: 0 0 0.5rem 0;">মেঘের পিঠে</h2><p style="font-size: 0.92rem; color: var(--text-secondary); margin: 0;"><strong>মূল চাকমা গল্প:</strong> মেঘঅ পিধে</p><p style="font-size: 0.92rem; color: var(--text-secondary); margin: 0.25rem 0 0 0;"><strong>অনুবাদক:</strong> মেনিলা চাকমা</p></div>
খেতে ইচ্ছে কার মেঘের পিঠে<br>সোনামণির<br>মেঘগুলো সব আকাশ ছুড়ে<br>মাটির থেকে বহুদূরে<br><br>একদিন এলো গনগনিয়ে<br>নিয়ে চড়িয়ে পিঠে<br>বাড়ি দেখালো মেঘলোকে<br>হাতে তুলে তুলে
সোনামণির ইচ্ছে খুবই মেঘের পিঠে যাবার। মেঘ কতই না সুন্দর। রাঙা মেঘ, সাদা মেঘ উড়ু উড়ু ভেসে বেড়ায়। তুলোর মতো সাদা মেঘগুলো জড়ো হলে বিরাট রাশি হয়। কালো মেঘ এলে বিদ্যুৎ চমকায় আর ঝড় হয়।
বিরাজ চমকালে তার জানালায় বসে সোনামণি মেঘের দিকে তাকিয়ে থাকে। কখনো আকাশ কালো হয়ে কড়া বৃষ্টি নামে কখনো শিল পড়ে। মা বলেন, ওই শিলগুলো পেলে হলে জিনিসপত্র নষ্ট করে দেয়। বেশি শিল পড়লে শিলের ঝলকানিতে ঘর ভরে যায়। হানা, কতটুকু পড়বে...<br>মুখে দিলে মুখ ভেদ করে সরু হয়ে মরে।<br>কী শীতল!
সোনামণি ভাবে শিলগুলো কতটা শীতল, আর মেঘগুলো কতটা শীতল হবে কে জানে? সে মনে মনে ভাবে, যদি পেখম পেত তাহলে জীবনটা মেঘে মেঘে ঘুরে বেড়াত। মাটিতেও নামত না। পেট জ্বললে মেঘ খেত, এ মেঘ থেকে ওই মেঘে বেড়িয়ে বেড়িয়ে থাকত।
একদিন সোনামণি উঠানের মাচায় বসে আছে। মুখের সামনে হঠাৎ করে একটা ফড়িং উড়ে এলো। রাঙা চিক চিক দুটো ডানা। কিয়াগানও রাঙা। লেজটা বাঁকানো। মাথা বড় চক চক। গত্তনার মতো এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ায়। বড় বড় দুটো চোখ। এলো দে এলো; সে এসে সোনামণিকে বললো—<br>— ও ভাই, আ কি ভাবছ?<br>সোনামণি অবাক! ওমা, সে কি করে কথা বলবে। সোনামণি সরে গিয়ে বুদ্ধি সামলে নিলো।<br>সেও বললো...<br>— ভাবছি, যদি তোমার মতো ডানা থাকত।
ফড়িংটা বিরাট হলো। সোনামণি উঠলো তার পিঠে। যাচ্ছে তো যাচ্ছে উড়ে। যেতে যেতে যেতেই... নাদেংকুট্টিবোলোই দেখা। সে বললো আ তুমি কোথায় যাবে? ফড়িংটা মাথা তুলে বললো, হ্যাঁ... ওইদিকে দিয়ে যাচ্ছি।
যেতে যেতে যেতেইই...লাগত পেলো তেদেক্কোকে। তার পরে উঠলো তেদেক্কোর পিঠে। তেদেক্কো নেজাতে নেজাতে নেজাতেই... দিলো একটা বার্গী পেক্কোকে। সে বার্গীপেক্কো দিলো একটা ধভাশিল্লোকে। ধভাশিল্লো বললো — আমি মেঘে থাকি। আমি তোকে এখুনি মেঘের দেশে দিয়ে দেবো। সে সোনামণি ধভাশিল্লোর পিঠে করে যেতে যেতে যেতেই....
এক্কেরে মেঘকন্যাবো উঠেছে। মেঘকন্যাবো পিঠদিয়ে উঠছে চ্যুরের। উঠতে কোনো কষ্ট নেই। ভালো লাগছে কোনো শিল। বৃষ্টি ঝরলে যেভাবে তারাইদু পড়ে। মনে হচ্ছে পেদে পেদে আজুর করে করে নাও। পাওলুং পাওলুং হাঁটা। মেঘকন্যাকে রেনি দেখলো। বাহ! কী সুন্দর! মেঘকে শাড়ি পরানো, মেঘের সাড়ি, মেঘের পিনন। পিননের চাবুগীবো রাঙাযুনিলোই বোনা।
ধভাশিল্লো মেঘকন্যাকে একটা জুউ জু দিলো। মেঘকন্যাও জুউ জু দিলো। ধভাশিল্লো বললো;<br>— মেঘকুমারী! এই সোনামণিটা বেশ লক্ষ্মী। বেশ ভালো...<br>তাকে মেঘের পিঠে খাওয়াতে ওইদিক থেকে নিয়ে এলাম।<br>— অঃ!<br>ভালো হয়েইতো বলে ধেয়ে গিয়ে আজা করে ধরে নিলো। ওমা! যেন উমমম...।
মেঘকুমারী আজা করে তার ঘরের চানায় বসিয়ে নিলো। একটা মেঘকে শাড়ি বুড়িয়ে দিলো।<br>বাহ, কী উম্ম!<br>কী তুমবাচ!!<br>কলাপাতার মতো এনে দিলো উমউম মেঘের পিঠে। একটু একটু ভাপ উড়ছে। জারালো মুখ থেকে ভাপ উড়ছে পারা। খেলে শীতল। মুখে ভরলে গলে যায়। একটা খেলে আরেকটা খাবার মনে চায়।
দুজনে মেঘের পিঠে খাচ্ছে আর গল্প করছে। মেঘকুমারী তাকে বললো, আমরা উপরে উঠে যেদিকে চাই সেদিকে শিল কোথায় চ্যে। আর আমাদের মিলে মাথা ঘুরিয়ে ফুরলে যে চুলানি বাতাস, পানি নামলে সে তোমাদের দিকে বৃষ্টি পড়ে।
অনেকক্ষণ পরে মেঘকুমারীটা কয়দি যেই গাড়িয়োই। দুজনে গড়াচ্ছে। পানিও মেঘের, সাওনও মেঘের। মেঘকুমারী বলে — আয় সোনামণিকে তোকে সাওন দিয়ে দুলে দুলে ঘাড় দিই। সেইসময় সোনামণির থেকে ছুঁচুরাত্তে.....। যেরেদি কিদিক কিদিক করে জেগে উঠলো।
মা ডাকছে;<br>— সোনামণি আয়্যি, ঘুমে ঘুমে আছিস? নেই, এ কি হয়েছে?<br>সোনামণি ঘুম থেকে জাগলো। রেনি দেখছে মা আজা করে আছে। উঠতে গিয়ে দেখছে এখনো মেঘের পিঠের স্বপ্ন বেজে আছে।
২৮.০৬.২০১৭<br>অনুবাদ: ১০.০৮.২০২০