অনুবাদ

রাজার বাড়ি নির্মাণ

5 মিনিট পাঠ

<div class="translation-meta-block" style="border-bottom: 2px solid rgba(99,102,241,0.15); padding-bottom: 1.25rem; margin-bottom: 1.75rem;"><h2 style="font-size: 1.6rem; font-weight: 700; color: var(--text-primary); margin: 0 0 0.5rem 0;">রাজার বাড়ি নির্মাণ</h2><p style="font-size: 0.92rem; color: var(--text-secondary); margin: 0;"><strong>মূল চাকমা গল্প:</strong> রাজঘর তুলোনা</p><p style="font-size: 0.92rem; color: var(--text-secondary); margin: 0.25rem 0 0 0;"><strong>অনুবাদক:</strong> মেনিলা চাকমা</p></div>

যে সে তো নয় রাজার বাড়ী নির্মিত হবে। কয়টা রুম হবে কত তলা হবে হিসাব চলছে। উত্তর পাশে দরজা হলে শীতকালে ঘরের সম্মুখে মাচায় রোদ পড়বে না।

পূর্ব পশ্চিম দরজা হলে বিকালে ঠান্ডা হাওয়া আসবে। পশ্চিমদুয়ারী হলে বিকালে তপ্ত রোদ............. বুদ্ধিমান শিয়ালটা একবার উপরে একবার নিচে তাকাচ্ছে। ডানে, বাঁমে তাকিয়ে গলা ঝেড়ে গলা চুলকে রাজাকে বলে রাজামশাই রাজবাড়ী দক্ষিণদুয়ারী হলে ভালো হয়। শীতকালে বাড়ীর সম্মুখে মাচায় বসে শরীরে রোদ ছোঁয়াতে পারবেন।

এমনিতেই এখন শীত বেশীই পড়ছে সেটাও ঠিক। রাণী নিতা জিজ্ঞেস করে, কর্তাবাবু বাড়ী কবে প্রস্তুত করবেন। জঙ্গলের পশুপাখিদের রাজা হলেন আপনি। আপনার কি তরশুতে হলে মানায়? সিংহ ভেবে বললো তাও তো ঠিক।

ধুরন্ধর যদি বিশাল সুন্দর বাড়ী থাকতে পারে তবে রাজার কেন থাকবে না, বিরাট সম্মানের ব্যাপার। কিন্তু বললেই তো আর ঘর হবে না। কোথায় ইট, কোথায় সিমেন্ট অনেক কিছু জোগার যন্তর লাগে。

সিংহ শিয়ালকে বললো —<br>— পণ্ডিত মশাই আপনি দ্রুত একটি বুদ্ধি দিন। শিয়াল বললো —

কর্তামশাই একটা বুদ্ধি করেন আপনি আপনার প্রজাদের ডেকে একটি সভার আয়োজন করুন। কারন আজকেই মাটি কাটতে হবে, গাছ বাঁশ সংগ্রহ করতে হবে। অনেক কাজ।

অনেক পরামর্শ করে বুধবারে পর বৃহস্পতিবার সভার আয়োজনের সময় নির্ধারনকরল। প্রত্যেক ঘরে ঘরে একজন করেও সংবেদনদাতা প্রেরণ করা সম্ভব নয়, নির্ধারন করা হল প্রত্যেকেই তাদেও প্রতিবেশীও জানিয়ে দেবে।

হরিণ, সিরা হরিণ, বন্য মহিষ, হাতি, বানর, বেজি, বন্য ইদুর, বিড়াল, ধলাফুরুক, আদালি, উঁচোত, ঝিকি পোকাটিও বাদ পরেনি। বৃহস্পতিবার। রাজপাহাড়ের একটা ঢালু জায়গায় সভার আয়োজন করা হল। একজনের পর একজন আসতেই থাকল। ছোটরা রাজার পিছনে বড়রা রাজার সামনে।

শিয়াল পণ্ডিত বলতে আরাম্ভ করল — বাবারা দাদারা সবাই একত্রিত হলে আমরা কি আমাদের কর্মসূচি বিষয়ে সভা আরম্ভ করতে পারি? সবাই বলুন, পারব পারব.........

শিয়াল পণ্ডিত গলা থেকে মাফলারটি খুলে গলায় পেঁচিয়ে বলতে আরম্ভ করল — শুনুন বাপদাদারা; জঙ্গলে আমরা দু’দল আছি। পশু আর পাখি, প্রত্যেকটি প্রাণীর ঘর আছে তাদের রাজারও প্রকাণ্ড লতাগাছে ঘর আছে। মনে চাইলে হাওয়া খায় মনে চাইলে রৌদ্র পোহায় কিন্তু আমাদের পশুদের যেমন ঘরবাড়ি নেই রাজারও নেই। সবার মানসম্মান আছে। আমরা সামান্য প্রজাদের গাছতলে বাঁশতলে জীবন কাটালেও চলে। আজকে রাজারানী যেমন তেমন করে থাকলে মানসম্মান কার যায়?

কারো কারো মুখ চুপসে গেল কেউ কেউ মাথা নিচু করে রইল। কাঠবিড়ালী বলে উঠল —

“হ্যাঁ ঠিক ঠিক........”<br>তো কি করা ?<br>শেষ পর্যন্ত রাজার ঘর বানানোর সিদ্ধান্ত হলো। খরগোশ বললো — শুধু সিদ্ধান্ত হলেই হবেনা। শব্দপোস্ত করে কাজে দস্তখত করে রাখুন। শুকর বললো — ঠিক ঠিক........ যে কোন কাজ প্রথমেই শব্দপোস্ত করে না করলে হয় না। হাতি বললো — সেইদিন কারো পেটের ব্যাথার কথা কোমরের ব্যাথার কথা শোনা হবে না। প্রয়োজনে কাজের স্থানে এসে শুয়ে বসে থেক।

সেদিন যার যার দা কুড়োল সে আনবে। গাছপোকাকেও বলা হল অবশ্যই সেদিন যেন তার কড়াত নিয়ে আসুক। সময় নির্ধারন করা হল আসছে রবিবার রাজার ঘর নির্মাণ করা হবে।

রবিবার। সবার আগে ঝিকিপোকা তার খাবার থলি নিয়ে এসে পরেছে। উঁড়োস, কাঠবিড়ালী আদালি, পর পর এসে পৌছেছে। শিয়াল পণ্ডিত মুখ থেকে মাফলার খুলে ডেকে বলছে —

এসো এসো সবাই এদিকে এসো। ঘাসগুলো একটু পরিষ্কার কর। যাদের কোদাল আছে তারা এদিকে এসো। এবরো থেবড়ো মাটিটা কেটে একটু সমান করে দাও। বিড়ালটা এক কোপ দিয়ে বললো — অসন্ত দা টা এত কেন বোঁতা। ভাইরা তোমরা থাক আমি একটু দা টা ধারিয়ে আনি।

বিড়ালটি বললো, (গানের সুর)<br><br>দা টা হলো বোঁতা,<br>আর নেই এক ফোঁটা।<br>ঘাস কাটে যেন না,<br>পিঁপড়া গান গায়।

আদালি চেঁচিয়ে বললো — রে-আক্কেল বিড়ালটা! তুই কেন আমার পাছায় কামড়াচ্ছিলিস ?<br>পিঁপড়া বলে উঠলো — আমাকে গান গাইতে কবে শুনেছো?

এ এক কথা, সে এক কথা তারপর শুরু হল ঝগড়া বিবাদ, তাড়াতাড়ি বন্য ইদুরটা বলে উঠলো — দেখ দেখ আমার মুখের দিকে দেখ। ইদুরটা বললো, (গানের সুর)<br><br>সকাল সকাল চলে এলুম,<br>কোথায় দুপদুপ মুখ ?<br>উদল দেখিয়ে লালছে দাঁত<br>একটু তাকিয়ে দেখ।

বন্য ইদুরের লালছে দাঁত দেখে সবাই উচ্চস্বরে হেসে উঠলো। এর সাথে সাথে সকলের মাঝে বিবাদ বন্ধ হলো।

দুপুর গড়িয়ে এলো। হরিণ বার বার তার খাবারের দিকে তাকিয়ে দেখে। এদিকে কারো কারো খবরই নেই আসার শেষে বলল — আমরা শুধু শুধু কষ্ট করছি। কারো কারো তো আসারই খবর নাই।

কিভাবে কিভাবে শুনলো উঁড়োসটা। কাজ রেখে এদিক সেদিক তাকাতে শুরু করল — ভাইরা রাখো রাখো।

আর মরে পিঠে কষ্ট করো না।

সবাই কি বলে উঠলো?

কি আর

তোমরা দেখতে পারছোনা আমরা ছোট বলে আমাদের দিয়ে খাটিয়ে নিচ্ছে। বড়দের তো এখনো আসার খবর নেই। বেলাটা প্রায় গড়িয়ে এলো। সবাই ভাবলো তাই তো।

তো কি করার ?

পণ্ডিতকে খবর দাও।

রাজাকে জানানো হোক।

সব শুনে সিংহ রেগে গেল।

সবাই হিসাব নিল। দেখা গেল হাতি, শুকর আর খরগোশ আসেনি।

যাও যাও এখনি যাও........<br>এখনি তাদের কানে ধরে নিয়ে এসো

কে যাবে?<br>এক বললে আমি পারবো না ওকে বললে আমিও পারবো না।

বন্য কুকুর বলল —<br>— কর্তামশাই ছোট মুখে বড় কথা, ক্ষমা চাইছি।<br>একবার আমি আমার সাধ্যানুযায়ী হাতিকে ঘেঁষে ঘেঁষে ঘেঁষেছি, কানটাও নাড়ায়নি।<br>বন্য বরাহকে পাঠালে হয় না।

আদালি বলল —<br>— শুকরটা বড়ই গোঁয়ার। তাকে কামড়ালেও সে কিছুই বলে না।

বানর বলল —<br>— কর্তামশাই আমি খরগোশকে আনতে যেতে পারবো।

ঝিকিপোকা বলল — কর্তামশাই আপনি হুকুম দিলে আমি এক সাথে ডান কান আর বাম কান ধরে হাতি ও শুকরকে কান ধরে নিয়ে আসতে পারবো।

সিংহ বলল —<br>— যাও যাও.... তোমাকে হুকুম দেওয়া হলো।

এদিকে খরগোশ ঘুমাচ্ছে, পুবের রোদ উঠেছে। বানর তার কান ধরে ঘুমে ঘুমে রাজার সামনে এনে হাজির করল।

এদিকে শুকর কাদা মেখে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। কোনো কথা নেই, ঝিকিপোকা শুকরের কানের ফুটোয় ধরে হাতিকে খুঁজতে গেল। হাতি তেলকুলা কলার বাগানে শুয়ে নাক ডাকছে। দুজনকে কানের ফুটোয় ধরে ঝিকিপোকা রাজার কাছে সঁপে দিল।

খরগোশ বলল —<br>— কর্তামশাই আমি ঘুম থেকে উঠতে পারিনি।<br>হাতি বলল —<br>— কর্তামশাই আমি ভুলে গিয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম আজ শনিবার।<br>শুকর বলল —<br>— কর্তামশাই দেখুন, রবিবারে রাজার ঘর তোলা শুরু করলে রোগ বালাই হতে পারে।

এ কথা সে কথা বলতে বলতে সন্ধ্যা হয়ে গেল! কাজের আর কাজ! রাজার ঘর তোলাও হলো না, সিংহের ঘরে থাকাও হলো না। তাই বনের রাজা সিংহের ঘর নেই।

— শেষ —

>>>> কান টানার কারণে খরগোশের কান লম্বা হয়েছে। এখনও লম্বা হয়েই আছে।<br><br>>>>> তখন থেকেই হাতি আর শুকরের কানের গর্তে এবং অন্য সময়ে ঝিকিপোকা থাকে।

উপদেশ: যেকোনো কাজে বড়দের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। ছোটরা কথায় সরল।

ছোটগল্প সংগ্রহে ফিরে যান